খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ড বিলুপ্ত: সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানকে হেনস্তার অভিযোগ।

খুলনা মহানগরীর শিরোমনিতে অবস্থিত অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল এর বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ড বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী আসগর। সোমবার (১৫ এপ্রিল, ২০২৬) হাসপাতাল পরিদর্শনকালে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় ট্রাস্টি বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ড্যাব নেতা ডা. রফিকুল হক বাবলুকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে সংসদ সদস্যের সাথে থাকা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।


ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ

  • হেনস্তার অভিযোগ: প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংসদ সদস্যের সঙ্গে আসা কিছু নেতাকর্মী ডা. বাবলুকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগের চাপ দেন এবং তাঁর দিকে তেড়ে যান।
  • সংসদ সদস্যের ভূমিকা: উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে আলী আসগার বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিজ্ঞদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
  • আগের কমিটির অবস্থা: ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর ১১ সদস্যের এই ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হয়েছিল, যার মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত। এই বোর্ডে বিএনপি, জামায়াত ও ছাত্র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

“এমপি সাহেবের আসার কথা শুনে আমরা ফুল নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু তিনি বসার পরপরই তাঁর সঙ্গীরা আমাকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করেন। মব তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এমপি কমিটি বিলুপ্ত করেন। আমি পরিস্থিতি মেনে নিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি।” — ডা. রফিকুল হক বাবলু, সাবেক চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বোর্ড।

“হাসপাতাল নিয়ে অনেক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী ও নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাৎক্ষণিক পরিবেশ শান্ত করতে এবং হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফেরাতে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখন সবার সাথে আলোচনা করে নতুন বোর্ড গঠন হবে।” — মোহাম্মদ আলী আসগার, সংসদ সদস্য, খুলনা-৫।


হাসপাতালের প্রেক্ষাপট

১৯৭৬ সাল থেকে পরিচালিত বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালটি ঐতিহাসিকভাবে প্রখ্যাত চিকিৎসকদের দ্বারা পরিচালিত হলেও গত কয়েক বছর ধরে এটি রাজনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়ে। ২০১৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার আব্দুল খালেক এর চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে ডা. বাবলুর নেতৃত্বে নতুন বোর্ড গঠন করা হয়েছিল, যা আজ আবারও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের শিকার হলো।