পানিতে ডুবে যাওয়া কাবা শরীফ সাঁতার কেটে তওয়াফ করেছিলেন যিনি

একবার ১৯৪১ সালে একাধারে ৭দিন বৃষ্টি হয়েছিল, তখন পবিত্র কাবা শরীফ ৬ফুট পানিতে ডুবে গিয়েছিল। সে সময় কাবা শরীফ পানিতে ডুবে গেছে, আর একজন সাঁতার কে’টে তওয়াফ করেছে।

১২ বছর বয়সী বাহরাইনের শেখ আলআওয়াদী তখন মক্কায় দ্বীনি স্কুলের ছাত্র ছিলেন। সেসময়ের ১২ বছর বয়সি কিশোর ২০১৫ র মে মাসের ১৬ তারিখ ৮৬ বছর বয়সে শেখ আল আওয়াদি বাহরাইনে ইন্তেকাল করেন। তার ছেলে আব্দুল মজিদ ২০ বছর আগে হজ্জ ক’রতে গিয়ে তার বাবার ছবির পোস্টার কপি কিনে এনেছিলো মক্কা থেকে পিতার জন্যে উপহার হিসাবে।

ইন্তেকালের আগে ২০১৩ সনে কুয়েত আল রাই টেলিভিশনে তিনি তার স্মৃ’তি চারণে বলেন, “ব’ন্যার পানিতে মানুষ, যানবাহন, আর গবাদি পশু ভেসে যেতে দেখেছি। ৭ দিন পর বৃষ্টি থামলে আমর ভাই হানিফ, ব’ন্ধুবর তিমবাক্তুর মালিয়ান শহরের মোহাম্মদ আল তাইয়িব, ও আলী থাবিত, আর ইয়ামেনের এডেনের হাসিম আল বার,

আর আমাদের শিক্ষক তিউনিসের আব্দুল রউফ মিলে কাবা শরীফের ব’ন্যার অবস্থা দে’খতে যাই। তিনি আরো বলেন, ‘বাচ্চারা পানি দেখলে যা করে আম’রাও তাই করলাম, মাথায় আ’সলো সাতরিয়ে তওয়াফ করবো। যা ভাবা তাই, আম’রা চারজন পানিতে ঝাপিয়ে পড়লাম।পু’লিশ হই হই করে উঠলো, আম’রা কালো পাথর চু’রি করার নিয়তে পানিতে নেমেছি কিনা।

আমি সাতরাতে সাতরাতে পু’লিশকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম, আমি শুধু সাতরিয়ে তওয়াফ করব ৭ বার, পু’লিশ তার স্বভাব সুলভ খবরদারী করেই চলছিলো। ইতিমধ্যে আলী থাবিত আর মোহাম্মদ আল তাইয়িব ক্লান্ত হয়ে পড়লে কাবা শরীফের দরজার ওপর বসে থাকে, উ’দ্ধার হবার আশায়।” শেখ আলআওয়াদী আরো বলেন,

“আমা’র ভ’য় হচ্ছিলো যে পু’লিশ আমাকে গু’লি করে না বসে আবার আনন্দ হচ্ছিলো এই ভেবে যে, পৃথিবীতে কেউ কোনদিন এই ভাবে কাবা প্রদক্ষিন করেনি, আমিই প্রথম। তাই ভ’য় আর আনন্দের মিশ্র অনুভুতি নিয়ে আমি কাবার চারপাশে সাতরিয়েই চললাম। পরবর্তীতে জানতে পেরেছিলাম, পু’লিশের রাইফে’লে আ’সলে গু’লি ছিলোনা।”

শেখ জা’নান তিনি তৎকালীন মক্কার বুড়ো মানুষদের কাছে জানতে চেয়ে ছিলেন তারা এরকম বানের পানি আগে দেখেছেন কিনা, তারা কস্মিন কালেও এত পানি দেখেননি বলে খবর দিয়েছেন।

Leave a Comment