সুনামগঞ্জে বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

বাংলাদেশ

শহীদনূর আহমেদ, সুনামগঞ্জঃ টানা আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রবিবার দুপুরের দিকে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার ফলে সুনামগঞ্জ জেলা শহরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন লক্ষাধিক পরিবার। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার পরিবার। এছাড়াও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে সুনামগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জেলা পানি উন্নযন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২১৩ মিলিমিটার। পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতে সুরমার পানি ৬৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পানি দ্রুতই ভাটি অঞ্চলে প্রবেশ করছে। এতে জেলা বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যর্থে কন্ট্রোল রুম ও আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, আকস্মিক বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলা শহরের নবীনগর, ষোলঘর, উকিলপাড়া, কাজির পয়েন্ট, বখত পয়েন্ট, হাছননগর, পশ্চিমবাজার, জেল রোড, আরিফন নগর, তেঘরিয়া, বড়পাড়া, পশ্চিম হাজীপাড়াসহ অধিকাংশ পাড়ার বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, রান্নাবান্না না করতে পেরে সমস্যায় পড়েছন পানিবন্দী কয়েক হাজার পরিবার। পরিবারের বয়স্ক ও শিশু সদস্যদের নিয়ে বিপাকে রয়েছেন অনেকেই। জেলার সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ছাতক, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লাসহ প্রায় সবকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দী লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলা শহর ও উপজেলা শহরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

শহরের বাগানবাড়ী পয়েন্ট এলাকার বাসিন্দা দিলদার হোসেন বলেন, আজ দুই দিন ধরে বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করছে। বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও রান্নাবান্নার সমস্যায় রয়েছেন আমার মতো শত শত পরিবার। এইভাবে চলতে থাকলে দুর্ভোগ বাড়তেই থাকবে। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা এখনও পর্যন্ত পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সে কারণে পাহাড়ি ঢলে আমাদের হাওর এলাকায় দ্রুতগতিতে পানি প্রবেশ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ২১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সুরমায় বিপৎসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৪১০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে খাবার সরবরাহ করার জন্য বলা হয়েছে। আমরা ৭৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছি। এছাড়াও যে কোনো সমস্যা সমাধান ও সহযোগিতার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

আজকেরনিউজবিডি.কম
২৮ জুন ২০২০ ইং

 65 views

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *