বানের জলে প্লাবিত ছাতকের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লোকজন

বাংলাদেশ

ছাতক প্রতিনিধিঃ বানের জলে প্লাবিত হয়েছে ছাতকের বিস্তীর্ণ এলাকা। দু’দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা, চেলা, পিয়াইনসহ উপজেলার সকল নদ নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। হাওর ও খাল-বিলে থৈ থৈ করছে বন্যার পানি। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে এখনে ভয়ংকর বন্যার আশংকা করা হচ্ছে।

সুরমা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে পৌরসভা সহ উপজেলার ছাতক সদর, ইসলামপুর, কালারুকা, নোয়ারাই, উত্তর খুরমা, চরমহল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে অনেক গ্রামীন সড়ক। বটেরখাল, কাকুরা নদীর পানিতে ভাতগাও, দোলারবাজার, জাউয়া, দক্ষিণ খুরমা, সিংচাপইড়, ছৈলা আফজালাবাদ ও গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজার তলিয়ে গেছে পানিতে। গ্রামীন অনেক সড়কে বন্ধ হয়ে পড়েছে যান চলাচল। তলিয়ে গেছে ছাতক-সিলেট সড়কের একটি অংশ। বানে ভেসে গেছে শতাধিক মৎস্য খামারের মাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শাক-সবজির বাগান ও বীজতলা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র মতে, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ১৬৫ সে.মি. উপর দিয়ে। ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিম জানিয়েছেন ইউনিয়নের সবক’টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। উত্তর খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ জানিয়েছেন ইউনিয়নের বড় বিহাই, গদারমহল, চলিতারবাগ, এলঙ্গি, রসুলপুর, রাজারগাও গ্রামের মানুষ পানিবন্দী আছেন। ছাতক সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নের আন্ধারীগাও, কাজিহাটা, তিররাই, বড়বাড়িসহ কয়েকটি গ্রামে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লোকজন।

এদিকে শনিবার দুপুরে বয়ে যাওয়া ঘূর্নিঝড়ে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাও ইউনিয়নের সৈদেরগাও গ্রামের আবাছ আলী, মক্তুজ আলী, সেবুল মিয়া, সাধু মিয়া, মনির উদ্দিনের বসতঘর ধসে পড়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে মসজিদের মিনার, মাইক ও হুজরা খানা। এসময় সৈদেরগাও গ্রামের মক্তুজ আলী, সাবিয়া বেগম ও ইব্রাহিম নামের এক শিশু আহত হয়েছে।

সিংচাপইড় ইউনিয়নের গহরপুর, চত্রিশ ও কালিপুর গ্রামে বিধ্বস্থ হয়ে ক’টি ঘরবাড়ি। বড় আকারের কয়েকটি গাছ উপড়ে রাস্তায় পড়ে গেলে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে প্রায় দু’ঘন্টা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গাছ কেটে রাস্তা থেকে সরিয়ে এখানে সড়ক যোগাযোগ সচল করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম কবির, সহকারী কমিশনার (ভূমি), তাপস শীল, ওসি মোস্তফা কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিকেলে মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত লাহিন ঘূর্নিঝড় কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান জানান ঘূর্নিঝড়ে সৈদেরগাও সহ এলাকার ৪০ টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম কবির জানান, উপজেলা পরিষদ চত্বর, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা এবং উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও রাস্তাঘাটে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। নদ নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এখানে প্রবল বন্যার আশংকা করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকা এবং দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।##

আজকেরনিউজবিডি.কম
২৭ জুন ২০২০ ইং

 348 views

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *