ভারত চীনের সংঘর্ষ কতদূর

আন্তর্জাতিক

অনলাইন ডেস্কঃআয়া ভারত ও চীন। দুই দেশই পারমাণবিক শক্তিধর। এই দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি সীমান্তবিরোধ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। গত সোমবার দিবাগত রাতে সংঘর্ষে ১ জন কর্নেলসহ ২০ ভারতীয় জওয়ান নিহত হয়েছেন। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষ সম্প্রসারণবাদী জাতীয়তাবাদের বিপদকে সমনে এনেছে।

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের লাদাখ এলাকার সীমান্তে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চীনও এ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর উল্লেখ করেনি। আর এই সংঘর্ষের ঘটনার দায় চাপিয়েছে ভারতের ওপর। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, চীনে এমন হতাহতের তথ্য প্রকাশ হতে বেশ সময় লাগে। কারণ, দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এসব কারণে তথ্যের জন্য ভারতের গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্তবিরোধ নতুন নয়। এর আগেও এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে শেষ এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। সেবার চার ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিল অরুণাচল প্রদেশে। আর ১৯৬২ সালে ছোটখাটো একটি যুদ্ধ হয়েছিল এই দুই দেশের মধ্যে। ফলে এবারে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা হচ্ছে, আকস্মিক এক ঝড় আসবে; যা দুই দেশের ওপরই প্রভাব ফেলবে।

১৯৬২ সালের ওই যুদ্ধের পর দুই দেশের সীমান্তের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) ঠিক হয়। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে এ নিয়ে কোনো সম্মতি ছিল না, ছিল না কোনো নিয়ন্ত্রণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনার মধ্য দিয়ে এটাই প্রকাশ পাচ্ছে। তবে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছিল যে তারা সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়া টহল দেবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের সংঘর্ষের ঘটনা একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এমন সংঘর্ষের ঘটনা আরও ঘটতে পারে।

কয়েক দশক ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থাপনা নির্মাণ বাড়িয়েছে চীন। আর কয়েক বছর ধরে এই পথে হাঁটতে শুরু করেছে ভারত। কিন্তু চীন চেষ্টা করছে ভারতকে এই পথ থেকে সরিয়ে দিতে। গত মে মাস থেকে চীনের সেনাদের এই চেষ্টা চোখে পড়ার মতো। সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের ‘ইন্ডিয়া প্রজেক্টের’ পরিচালক তানভি মাদান বলেন, এ ধরনের এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন। ব্যাপারটা এমন নয় যে এমন ঘটনা শুধু তাৎক্ষণিকভাবে ঘটেছে। এটা নিয়ে চীনের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে নির্দেশনা এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) নিরাপত্তা অধ্যয়নের অধ্যাপক ভিপিন নারাংয়ের মতে, ভারতের গণমাধ্যম তুলনামূলক স্বাধীন। এ অবস্থায় জাতীয়তাবাদীদের দিক থেকে একধরনের চাপ আছে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে। ফলে খুব সহজে এই উত্তেজনা কমিয়ে আনা কঠিন হবে ভারতের জন্য।

আজকেরনিউজবিডি.কম
১৮ জুন ২০২০ ইং

 206 views

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *