রাস্তা সংস্কারে অনিয়ম অভিযোগ: নড়াইলে ১১ কোটির সড়ক বেহাল

নড়াইল-শেখহাটি সড়কের বেহাল দশা

নড়াইল-মুলিয়া-শেখহাটি সড়কে বর্তমানে রাস্তা সংস্কারে অনিয়ম অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মাত্র দুই বছর আগে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৫ কিলোমিটার সড়কের অনেক জায়গায় বড় গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। পিচ উঠে গিয়ে সড়কটি এখন যানবাহন চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই রাস্তার এই করুণ দশা হয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও বছর না যেতেই তা ভেঙে যায়। সামনে বর্ষা মৌসুমে জনভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন চালকরা।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই ১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়ন করে। শেখহাটি ও দেবভোগসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের দুই পাশ দেবে গেছে। ইজিবাইক চালকদের মতে, ঠিকমতো নির্মাণ সামগ্রী না দেওয়ায় রাস্তাটি টেকসই হয়নি। মোটরসাইকেল চালকরা জানান, বর্তমানে এই রাস্তায় গাড়ি চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন আগে এলজিইডি নিজস্ব উদ্যোগে কিছু সংস্কার কাজ শুরু করেছে। তবে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়রা প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

কর্তৃপক্ষের মতে, রাস্তা সংস্কারে অনিয়ম অভিযোগ থাকলেও অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলই ক্ষতির প্রধান কারণ। নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর মঙ্গলবার এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট লোড সীমার চেয়ে বেশি ওজনের ট্রাক চলায় সড়কের ক্ষতি হচ্ছে। ঠিকাদারের ত্রুটিকাল শেষ হওয়ায় এখন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল থেকে মেরামত চলছে। ২০২৭ সালে সড়কটি পুনরায় বড় ধরনের সংস্কারের উপযোগী হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। টেকসই সড়ক নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Translate »