
দেশে চলতি এপ্রিল ও মে মাসের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে জুন মাসের সম্ভাব্য চাহিদা মেটাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আমদানিকৃত জ্বালানির পুরো চালান দেশে পৌঁছেছে এবং এপ্রিল-মে মাসের চাহিদা পূরণে কোনো ঘাটতি নেই। এখন জুন মাসকে সামনে রেখে অতিরিক্ত মজুত নিশ্চিতের কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও জানান, ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সরকার পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রিফাইনারিটির দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৯ সাল থেকে চালু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে কৃষি ও শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে গৃহস্থালি খাতে তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে মে মাসে ফসল সংগ্রহ শুরু হলে গৃহস্থালি খাতকে আবার অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এর আগে ১৫ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানান, দেশে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত দিয়ে অন্তত দুই মাস কোনো সংকট হবে না।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে জ্বালানির মজুতের পরিমাণ—
- ডিজেল: ১,১৩,০৮৫ টন
- অকটেন: ৩১,৮২১ টন
- পেট্রোল: ১৮,০২১ টন
- ফার্নেস অয়েল: ৭৭,৫৪৬ টন
সরকারের দাবি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে আমদানি ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।