
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা ও লিমনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন দূতাবাস ও মিয়ামি কনস্যুলেট যৌথভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার এই দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন। ১০ দিন পর টাম্পা বে এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লিমনের মরদেহে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ হিশামের বিরুদ্ধে দুটি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ এনেছে। নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়েও তদন্ত চলছে।
একটি ফৌজদারি হলফনামায় নাহিদার মরদেহের পোশাকের মিল পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজের পোশাকের সঙ্গে উদ্ধারকৃত খণ্ডিত মরদেহের মিল রয়েছে। লিমনের মরদেহ শনিবার ফ্লোরিডা থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে। সোমবার ৪ মে মরদেহটি দুবাই হয়ে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নাহিদা বৃষ্টির মরদেহ দ্রুত পাঠানোর জন্য তাঁর পরিবার অনুরোধ জানিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা নিখোঁজ নাহিদার সন্ধানের সঙ্গে মরদেহের যোগসূত্র খুঁজছেন। অভিযুক্ত হিশাম বর্তমানে শেরিফ অফিসের হেফাজতে রয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমেছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে নাহিদা ও লিমনের মরদেহ নিয়ে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা মরদেহ দ্রুত পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে দুজনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। লিমনের মরদেহ সোমবার ৪ মে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পিএইচডি গবেষণারত এই দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফরেনসিক রিপোর্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ঘাতক হিশামের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানো পর্যন্ত দূতাবাস সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।