
বাগেরহাটে এক মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শহরের শালতলা ও রেলরোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের তীব্রতায় পাকা বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে এবং বহু গাছ উপড়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক মিটার ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। ফায়ার সার্ভিস সকালে গাছ কেটে রাস্তার প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করেছে। তবে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসন বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
শহরের অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টিনের ছাউনি ও বিলবোর্ড ঝড়ে উড়ে গেছে。 ব্যাংক, বীমা এবং জেলা প্রশাসকের বাংলোর অবকাঠামোও এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে。 অনেক স্থানে পাকা দেয়াল ধসে পড়েছে এবং কারখানার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন বিধ্বংসী ঝড় তাঁরা আগে কখনো দেখেননি। বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করে শুক্রবার দুপুরের মধ্যে সংযোগ সচল করেছে। মাঠের পাকা ধান ঝড়ে নুয়ে পড়ায় কৃষকরাও বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের কাছে জরুরি সহযোগিতা দাবি করেছেন。
বাগেরহাটে এই তীব্র আকস্মিক ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে কাজ করছে প্রশাসন। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করা হবে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। লতাপাতা ও ভেঙে পড়া গাছের ডাল সরিয়ে সড়কগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। শহরের হেরিটেজ স্টে ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এসির আউটডোরও উড়ে গেছে। হালকা বৃষ্টির পর হঠাৎ শুরু হওয়া এই ঝড়ে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ঝড়ের স্থায়িত্ব কম হলেও এর ধ্বংসলীলা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রশাসন সব উপজেলার তথ্য পাওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে।