
বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে অবশেষে দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাত, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে একসময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন দাম অপরিবর্তিত রাখলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবতার নিরিখে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন নির্ধারিত দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা করা হয়েছে।
পেট্রোল-অকটেনের দাম নিয়ে জামায়াতের ‘সস্তা রাজনীতি’ কিন্তু ভারতের এক রুপি বাংলাদেশের ১.৩৩ টাকা; গতকাল দিল্লিতে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৯৩.৮৭ রুপি দরে যা বাংলাদেশের মুদ্রায় ১২৪.৮৭ টাকা। প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হয়েছে ১০২.৬১ রুপি দরে যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩৬.৩৯ টাকা। অথচ বাংলাদেশের ডিজেলের নতুন দাম ১১৫ টাকা; পেট্রোলের নতুন দাম ১৩৫ টাকা। এত জ্বালানি যায় কোথায়?
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী ভারত-সহ অন্যান্য দেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্ত দিয়ে পাচার বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয় ছিল সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
সরকার জানিয়েছে, কৃষি খাতের কথা বিবেচনায় রেখে ডিজেলের দাম তুলনামূলক কম বাড়ানো হয়েছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় না করলে পাচার ও কালোবাজারি আরও বাড়তে পারত।
এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মজুদদারি ও ‘প্যানিক বায়িং’-এর কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মোবাইল কোর্টসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করেছে। তবে সরকারপক্ষ বলছে, বৈশ্বিক বাস্তবতায় এই সিদ্ধান্ত অনিবার্য ছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতকে টেকসই করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে।